Ek Atmyaja (Bengali)
-
- $2.99
-
- $2.99
Publisher Description
চোখে দেখা আর কানে শোনা, এই দুয়ের মাঝেই সাধারণত ধরা থাকে বাস্তব। অনেক সময় এর বাইরে গিয়ে এমন কিছু অবস্থার সামনে পড়তে হয়, যেগুলো সনাতন দেখা বা শোনার পরিচিত দুনিয়ার সঙ্গে কোনও ভাবেই মিলিয়ে নেওয়া যায় না। চিন্তা ভাবনাগুলো থমকে যেতে চায়। তা সত্ত্বেও বারবার মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা যখন ধাক্কা খেতে থাকে চারপাশে ঘিরে থাকা নানা সম্পর্কের মানুষগুলোর কাছে, তখন পুরো পরিবেশটাই অসহ্য হয়ে ওঠে। ভাবনার অন্য পরিসর কোনও দিক থেকেই স্পষ্ট হতে পারে না। দিশাহারা মানুষ খোঁজে অবলম্বন। আর সে যদি কোনও মেয়ে হয়, কারও মেয়ে, স্ত্রী বা বোন, তবে আজও এই অত্যাধুনিক পৃথিবীতে তার সেই অসহায় অবস্তার জন্য সেই দায়ী থাকে। অন্যদের দেখা ও শোনার গণ্ডিতে বাঁধা পড়ে। তার চলার স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে ভেবেই অন্যরা নিষ্ক্রিয় হতে চায়।
আশ্চর্য এক বোধ থেকে আজও অন্যের লড়াইকে, বিশেষ করে ব্যবহারিক জীবনের অচলায়তানে ধাক্কা দেওয়ার প্রয়াসকে অন্তর থেকে সন্মান করতে শিখে ওঠা হয় নি। ওটা পাঠ্যক্রমে নেই। ফলে সেই অসম লড়াইরের স্বীকৃতিও নেই। আজও সরল সৎ বিশ্বাসে কোনও মেয়ের একক জীবনের গতিকে এড়িয়ে যেতে এবং সেইসঙ্গে উপহাস করতেও বাধে না। সেটাই শিক্ষার বিশেষত্ব। এক আত্মজার কথা বারবার সেই স্বরচিত বাস্তবের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়।
নূপুরকে ঘিরে থাকা চরিত্রগুলো সময়ের নিয়মে সচল। আবার একই সঙ্গে নূপুরের গতিময় মননে তাদের অনেকেই চলৎশক্তিহীন। অতি সাধারন স্বার্থপর ভাবনায় বদ্ধ। আচার আচরণে শিশুতুল্য। তারা যা কিছু চায়, তা কেন চাইছে সেটাও ঠিকঠাক জানে না। অভাবেই তাদের চলে যাচ্ছে। তাদের জগতে সবকিছুই নিস্তরঙ্গ, ফ্যাকাসে। সেখানে নূপুরের স্বাতন্ত্র্য, অত্যন্ত পরিশীলিত উৎপাত ছাড়া আর কিছুই নয়।
আদতে যে কোনও সমস্যাই এমন ডালপালা ছড়িয়ে দেয় যে, সেসব এড়িয়ে লক্ষ্য স্থির রাখাই আরও বড় সমস্যা তৈরি করে। খুব কম মানুষই চারপাশের প্রবল ধাক্কা কাটিয়ে শিকারির মতো সজাগ, সতর্ক দক্ষতা রপ্ত করতে পারে। সাধারণ পরিবারের নিতান্ত ঘরোয়া মূল্যবোধে অভ্যস্ত নূপুর যেভাবে অপরিচিত পরিবেশের আওতা ছাড়িয়ে নির্দিষ্ট দিকে ছুটে গেছে তা কোনও গল্পকথা নয়, এক সমাজচিত্র। বাংলার বাইরে ছড়িয়ে থাকা বঙ্গসমাজের টুকরো ছবিতে গড়ে ওঠা অন্য জগৎ। পরিবেশ ও পরিস্তিতির প্রয়োজনে সংঘবদ্ধ মানুষের নিঃসঙ্গতা যেখানে অতিকায় বাস্তব। এ সবের সঙ্গে সমষ্টির সংঘাত ও সহযোগিতায় রঙিন সেই ক্যানভাস দেখা ও শোনাকে ঘিরে বেড়ে ওঠা স্বাভাবিক চিন্তার ধারাকে বারবার পাল্টে দিতে চায়।
মানুষের কাছে সুদিন আর দুর্দিনের দ্বন্দ্ব চিরকালীন। সেই দ্বৈরথের মাঝে নিজেকে খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে যাওয়ার অভ্যাসটাও সহজাত। এখানে নূপুরের জন্য তেমন কিছু নেই। বরং তাকে ঘিরে থাকা চরিত্রদের অনেকেই দেখা যায় হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে নিজের মধ্যেই বন্দি হয়ে যেতে। যেখানে নূপুর নিজের জন্যে খুঁজে নিয়েছে সহজ, সরল, নির্মম পথ। যে পথ তাকে নিয়ে যাবে ইচ্ছামতো। সে গড়ে নেবে নিজের সম্পূর্ণ পরিচয়। প্রচলিত দেখা, শোনা, বোঝার বাইরে যে পরিচয় বহু মানুষকে তৃপ্ত করে।
প্রথম লেখাতে যে ভাঙ্গাগড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন মিতালি মুখোপাধ্যায়, আশা করা যায় তা আগামী দিনেও বজায় থাকবে। শ্রীবৃদ্ধি হবে মানুষের গতানুগতিক চেতনার। সময়ের ধারায় বদলে যাওয়া জীবনের সামনে আসবে আরও নতুন পথ নির্দেশ। রোজের দিনতা থেকে অন্তত পক্ষে বেরিয়ে আসতে পারবে অনেকে।