Karnacharit (Bengali)
-
- $3.99
-
- $3.99
Publisher Description
এই কাব্যগ্রন্থটি চতুর্দশপদী,অমিত্রাক্ষর ছন্দে, মহাকাব্যিক আঙ্গিকে রচিত । নয়টি সর্গে বিস্তৃত এই কাব্যের মধ্যমনি হলেন মহাভারতের সবচেয়ে বর্ণময় প্রতিনায়ক, কর্ণ । এই কাব্যে কর্ণ নেহাতই এক রক্তমাংসের মানুষ। দোষেগুনে সম্পূর্ণ। তিনি মহান যোদ্ধা ,কিন্তু অতিমানব নন। কর্ণের মতো বর্ণাঢ্য চরিত্র সারা মহাভারত খুঁজলেও পাওয়া দুষ্কর। কাব্যে বিভিন্ন চরিত্রের দেবত্ব বা অসুরত্ব খুঁজে পাওয়া অনেক বেশি সহজ। কিন্তু কর্ণ যেন সবকিছু থেকেই আলাদা। কথায় আছে যে দোষে গুণে মিলিয়ে মানুষ। এই কর্ণের চরিত্রে আমরা সবকিছুই খুঁজে পাই। দোষ পাই প্রচুর। আর গুণ? সে তো গুনে শেষ করাই দায়। কাজেই এ কথা নির্দ্বিধায় হয়তো বলা যেতে পারে যে, মহাভারতের সব চরিত্রের মধ্যে কর্ণ চরিত্রটিই সবচেয়ে মানুষের মতো, বা বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়। মহাভারতের সবচেয়ে ভাগ্যবিড়ম্বিত চরিত্র কর্ণ। জন্মের ইতিহাস তাঁর কুহেলিকায় আচ্ছন্ন, যেমন তাঁর শৈশব বা বাল্যকাল।
যৌবন তাঁর পরস্পরবিরোধিতায় জর্জরিত। আর মৃত্যু? সে তো তাঁর ভাগ্যবিড়ম্বনার শেষ কথা। পাণ্ডবমাতা কুন্তীর প্রথম পুত্র কর্ণ। মাতার বিবাহের পূর্বেই জন্ম তাঁর। জন্ম তাঁর লালসা ও ধর্ষণের মধ্যে দিয়ে। ধর্ষিতা অনূঢ়া কিশোরীর প্রথম সন্তান কর্ণ। সমাজের রক্তচক্ষু ও লোকলজ্জার ভয়ে জন্মের পরেই তাঁকে ত্যাগ করলেন তাঁর জন্মদাত্রী। তারপর ভাগ্যের স্রোতে ভাসতে ভাসতে কর্ণ পৌঁছলেন তাঁর মাতা রাধার কোলে। ভাগ্যের কী নিষ্ঠুর পরিহাস। যে বীর সূর্যের অংশে জন্মগ্রহণ করলেন, সেই ক্ষত্রিয়সন্তান বেড়ে উঠলেন সূতপুত্রের পরিচয় নিয়ে। কিন্তু তার কি কোনও প্রয়োজন ছিল? সেদিনের সমাজ তো আজকের মতো ছিল না। কুন্তীর স্বামী, হস্তিনাপুর নরপতি প্রবল প্রতাপান্বিত পাণ্ডু ছিলেন সন্তান উৎপাদনে অক্ষম, তা যে কারণেই হোক না কেন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে, স্বেচ্ছায় বনবাসের সময়ে পাণ্ডু কুন্তীকে বলেছিলেন যে, বিবাহের পূর্বে যদি তাঁর কোনও সন্তান থেকে থাকে তা তিনি পাণ্ডুকে বলতে পারেন। কারণ, আইন অনুসারে, তখনকার সমাজ ব্যবস্থায় সেই সন্তানের পিতা হওয়ার কথা ছিল পাণ্ডুর। কিন্তু লজ্জায় কুন্তী মুখ ফুটে সে কথা তাঁর স্বামীকে বলতে পারেননি। বলতে পারলে অন্য কলম দিয়ে লেখা হত কর্ণের জীবন কাহিনি। কারণ প্রথম পার্থ হিসেবে তিনিই হতেন প্রথম পাণ্ডব – হস্তিনাপুর সিংহাসনের একমাত্র হকদার। অর্থহীন হয়ে যেত মহাভারতের ভারতকথা।